শাহীন সরকার পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার মিরের বাজারে মডার্ণ ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারে মেডিকেল টেষ্টে ভূল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার করতে অনুমোদনপত্র না থাকলেও ম্যানেজ করে নাকের ডগায় মিরের বাজার চৌরাস্তায় চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা।
মাঝেমধ্যে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হলেও সাস্থ্য সেবার নামে অবৈধভাবে জনাকীর্ণ স্থানে মনোরম সাইনবোর্ড লাগিয়ে চুটিয়ে নির্বিঘ্নে চলছে স্বাস্থ্য পরিক্ষা নীরিক্ষা।
অন্য দিকে ফেইসবুক পেইজ খুলে ও বিভিন্ন ফেইসবুক গ্রুপে ডাক্তারের নাম পদবি দিয়ে নিয়মিত রোগি দেখার অজুহাতে প্রায়শই লিখেন বিভিন্ন পরীক্ষা। মুলত রোগ নির্ণয়ের নামে উচ্চ মূল্যে সব ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।ফলে আর্থিক ক্ষতি, স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে সাধারণ রোগীরা। ভুল চিকিৎসার খেসারত দিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য জমি জমা বিক্রি করে অনেককে ঢাকা উত্তরা এমনকি ইন্ডিয়াতেও যেতে হয় রোগীকে নিয়ে। এমনি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে পূবাইল মেট্রোপলিটন থানার মিরের বাজার চৌরাস্তায় মডার্ণ ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালট্যান্ট সেন্টার নামে একটি নামসর্বস্ব ক্লিনিকে।
জানা যায়, ১৭ই এপ্রিলে পূবাইলের ৪১ নং ওয়ার্ডের বড়াদল এলাকা থেকে নিলিমা (১৪) নামের এক রোগী তার বাবার সাথে পেটের সমস্যা নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। রিপোর্টে ডাঃ তাসনীম সুলতানা রোগীর বাবাকে জানান রোগীর লিভারে কোনো একটি অংশে পানি জমাট বেধেছে। রিপোর্ট পেয়ে রোগীর পরিবার দুশ্চিন্তা ও হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। পরের দিন উত্তরা পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে রিপোর্টে ডাঃ মতিউর রহমান খান রোগীর বাবাকে জানান তার লিভারে কোন সমস্যা নেই। আগের রিপোর্ট টি ভুল। নিলিমার বাবা এনামুল হোসেন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান ডাক্তার ভুল স্বীকার করেছে তাই এটা ভুলে যেতে চাই।ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাইনা।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাঃ তাসনীম সুলতানা রিপোর্টের ব্যাপারে জানান যে, আমার রিপোর্ট সঠিক, চেম্বারে আইসেন।মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক সজল এই ভূল রিপোর্টের ব্যাপারে জানতে চাইলে জানান ভুল হতেই পারে চায়ের দাওয়াত রইল।
দুটি রিপোর্ট গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ খাইরুজ্জামানকে পাঠিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান অনুমোদন ছাড়া কীভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাচ্ছে সেটা দেখে ভুল রিপোর্টের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply